আস্থা ডেক্স : টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, সাবেক স্বরাষ্ট্র, কৃষি ও এলজিআরডিমন্ত্রী ও বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মাহমুদুল হাসান ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। একাধারে তিনি ছিলেন সাবেক স্বরাষ্ট্র, স্বাস্থ্য, কৃষি ও এলজিআরডি মন্ত্রী, অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র, সাবেক সংসদ সদস্য, শিক্ষানুরাগী। তাকে বলা হয় আধুনিক টাঙ্গাইলের স্থপতি, ঢাকার সৌন্দর্য বিনির্মাণের কারিগর এবং জনগণের অকৃত্রিম বন্ধু। অসাধারণ মেধা, নেতৃত্বগুণ ও দেশপ্রেম দিয়ে টাঙ্গাইল তথা দেশের গর্ব হয়ে উঠেছিলেন মেজর জেনারেল (অব.) মাহমুদুল হাসান।
বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) বিকেল ৩টায় ঢাকার নিজ বাসভবনে বার্ধক্যজনিত কারণে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯০ বছর। তিনি এক ছেলে ও এক মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয় স্বজন, সহকর্মী, গুণগ্রাহী ও শুভানুধ্যায়ী রেখে গেছেন।
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ফরহাদ ইকবাল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। গভীর শোক প্রকাশ করে তিনি জানান, ঢাকার নিজ বাসায় আধুনিক টাঙ্গাইলের রূপকার ও বর্ষীয়ান নেতার মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) বাদ জোহর টাঙ্গাইল বিন্দুবাসিনী সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে মরহুমের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।
টাঙ্গাইল-৫ (সদর ) আসনের বিএনপির বিদ্রোহীপ্রার্থী ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ফরহাদ ইকবাল বলেন, মেজর জেনারেল (অব.) মাহমুদুল হাসান ছিলেন একজন সমাজসেবক, নিষ্ঠাবান ও দায়িত্বশীল মানুষ। শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। তাঁর মৃত্যুতে টাঙ্গাইল সদরবাসি একজন অভিভাবক হারালেন।
মরহুমের রূহের মাগফিরাত কামনা সহ শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান তিনি। মেজর জেনারেল মাহমুদুল হাসানের মৃত্যুতে টাঙ্গাইলে বিএনপি নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বিএনপির প্রচার সম্পাদক ও টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে বিএনপি মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও টাঙ্গাইল-৫(সদর) আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী অ্যাডভোকেট ফরহাদ ইকবাল, জেলা বিএনপির সভাপতি মো. হাসানুজ্জামিল শাহীনসহ বিএনপি, স্বেচ্ছাসেবক দল, যুবদল, ছাত্রদলসহ অঙ্গ সহযোগি সংগঠণের নেতৃবৃন্দ।
উল্লেখ্য, ১৯৩৬ সালের ১ মার্চ টাঙ্গাইল সদর উপজেলার মাকোরকোল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন মেজর জেনারেল (অব.) মাহমুদুল হাসান। যদিও তার পূর্বপুরুষদের মূল নিবাস ছিল দেলদুয়ার উপজেলার মুশুরিয়া গ্রামে। ব্রিটিশ জাহাজে চাকরি করতেন তার দাদা জয়েন উদ্দিন শিকদার। দাদা চাকরিজীবন শেষে প্রাপ্ত জমির সুবাদে মাকোরকোলে বসতি স্থাপন করেন। বর্তমানে তাদের স্থায়ী ঠিকানা হয়ে উঠেছে এটি । তার বাবা আসিম উদ্দিন ছিলেন এলাকায় অত্যন্ত সম্মানিত ব্যক্তি।
টাঙ্গাইল সদর উপজেলার মাকোরকোল ইউনিয়নের গ্রামটিতে গুণী পরিবারের বসবাস ও খ্যাতির স্বীকৃতি স্বরূপ ১৯৮৪ সালে স্থানীয়দের মাহমুদুল হাসানের নামযুক্ত করার দাবিনুসারে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার মাকোরকোল ইউনিয়নটির নাম পরিবর্ত্ন করে মাহমুদনগর করা হয়। তিনি রাষ্ট্রপতি এরশাদের শাসনামলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৮ সালে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরে ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে বিএনপি থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং ২০১২ সালের উপ-নির্বাচনে পুনরায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
১৯৫৬ সালে বিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পর ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৫৯ সালের ১৩ জুন পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে কমিশনপ্রাপ্ত হয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং কোরে যোগদান করেন তিনি। কর্মজীবনে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন এবং ১৯৬৫ সালের পাক-ভারত যুদ্ধে কাশ্মীরের আখনুর সেক্টরে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন মাহমুদুল হাসান।








