নিজস্ব প্রতিবেদক:
উপজেলা পর্যায়ে সম্ভাবনাময় তরুণ উদ্যোক্তাদের চিহ্নিত করে উৎপাদনশীল কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ‘উদ্যোগ (UDYOG): উপজেলাভিত্তিক তরুণ উদ্যোক্তা অনুসন্ধান, চিহ্নিতকরণ ও অর্থায়ন কর্মসূচি’ চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এসএমইএসপিডি সার্কুলার নং-০৫-এর মাধ্যমে এ সংক্রান্ত নীতিমালা জারি করা হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে দেশের আট বিভাগের আট জেলার মোট ৬৮টি উপজেলায় এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।
জেলাগুলো হলো—মানিকগঞ্জ, ফেনী, নওগাঁ, ঝিনাইদহ, ভোলা, হবিগঞ্জ, রংপুর ও নেত্রকোনা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে এ কর্মসূচির আওতায় আবেদন গ্রহণ শুরু হবে। আবেদন করা যাবে ১৫ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত। নির্ধারিত সময়ের পর কোনো আবেদন গ্রহণ বা বিবেচনা করা হবে না।
আবেদনকারীরা বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট, এসএমই পোর্টাল এবং তফসিলি ব্যাংকগুলোর নিজস্ব ওয়েবসাইট থেকে নির্ধারিত আবেদন ফরম সংগ্রহ করতে পারবেন। পূরণ করা ফরম সংশ্লিষ্ট উপজেলার যেকোনো তফসিলি ব্যাংকের শাখায় জমা দেওয়া যাবে। এজন্য আবেদনকারীর ওই ব্যাংকে আগে থেকে হিসাব থাকা বাধ্যতামূলক নয়। আবেদন করতে কোনো ধরনের ফি বা খরচও দিতে হবে না।
কারা আবেদন করতে পারবেন
আবেদনের শেষ তারিখে সর্বোচ্চ ২৮ বছর বয়সী বাংলাদেশের নাগরিকরা এ কর্মসূচির জন্য আবেদন করতে পারবেন। আবেদনকারীকে সংশ্লিষ্ট উপজেলার স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে।
নিজস্ব ব্যবসায়িক উদ্যোগ, ব্যবসায়িক ধারণা অথবা নতুন ব্যবসা শুরু করার বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা থাকলেই আবেদন করা যাবে। এমনকি বাস্তবসম্মত ব্যবসায়িক ধারণা থাকলেও আবেদন করার সুযোগ রয়েছে।
তবে আগে ব্যবসার জন্য কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নেওয়া থাকলে, কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত হলে কিংবা সরকারি, আধা-সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকলে এ কর্মসূচির আওতায় অর্থায়নের জন্য আবেদনকারীকে যোগ্য বিবেচনা করা হবে না।
সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা অর্থায়ন
নির্বাচিত উদ্যোক্তার প্রকৃত ব্যবসায়িক চাহিদা ও প্রস্তাবিত ব্যয়ের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত সমন্বিত অর্থায়নের সুযোগ থাকবে। এর মধ্যে ৮০ শতাংশ ঋণ এবং ২০ শতাংশ অনুদান দেওয়ার কথা রয়েছে।
নীতিমালা অনুযায়ী সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যাংক ঋণ এবং সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত অনুদান পাওয়া যেতে পারে। ঋণের ক্ষেত্রে কোনো সহায়ক জামানত নেওয়া হবে না।
তবে প্রকৃত ব্যবসায়িক প্রয়োজন, ব্যয় পরিকল্পনা ও চূড়ান্ত মূল্যায়নের ওপর ভিত্তি করে অর্থায়নের প্রকৃত পরিমাণ নির্ধারণ করবে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক।
ঋণ ও অনুদানের অনুমোদিত অর্থ একই সময়ে এককালীনভাবে উদ্যোক্তার ব্যাংক হিসাবে জমা দেওয়া হবে। কোনো অর্থ নগদে প্রদান করা হবে না।
তবে নির্ধারিত সময়ে ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে অথবা অর্থের যথাযথ ব্যবহার না হওয়ার বিষয়টি প্রমাণিত হলে বিতরণ করা অনুদানের সমপরিমাণ অর্থ ঋণে রূপান্তর করা হবে। পরবর্তী সময়ে তা সরকারি পাওনা হিসেবে প্রচলিত আইন অনুযায়ী আদায় করা হবে।
অর্থায়নের পাশাপাশি প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ‘উদ্যোগ’ কর্মসূচি শুধু অর্থায়নকেন্দ্রিক নয়। এর আওতায় প্রত্যেক আবেদনকারীকে Financial Literacy Programme-এর সঙ্গে যুক্ত করা হবে।
নির্বাচিত উদ্যোক্তারা প্রশিক্ষণ, অভিজ্ঞ মেন্টরের পরামর্শ, ব্যবসা নিবন্ধন ও ব্যবসায়িক পরিকল্পনা তৈরিতে সহায়তা এবং বাজারের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের সুযোগ পাবেন।
তদবির করলে বাতিল হতে পারে আবেদন
কর্মসূচির সুবিধা পেতে কোনো পর্যায়ে তদবির করা হলে সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীকে অযোগ্য ঘোষণা করা হবে এবং তার প্রার্থিতা বাতিল হতে পারে।
এ ছাড়া আবেদনে অসত্য তথ্য দেওয়া কিংবা অন্যের ব্যবসায়িক ধারণা নিজের নামে উপস্থাপন করে সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা ধরা পড়লে আবেদন যেকোনো পর্যায়ে বাতিল করা হবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীকে কালো তালিকাভুক্ত করার বিধান রয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের আশা, ‘উদ্যোগ’ কর্মসূচির মাধ্যমে উপজেলা পর্যায়ের সম্ভাবনাময় তরুণদের ব্যাংক অর্থায়নের আওতায় এনে নতুন ব্যবসা ও উৎপাদনশীল কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও তরুণদের উদ্ভাবনী উদ্যোগকে আরও এগিয়ে নেওয়ায় কর্মসূচিটি ভূমিকা রাখবে।