বিরোধী দলের দাবি উপেক্ষা করে এককভাবে সংবিধান সংশোধনের পথে হাঁটছে ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকার. বিরোধী দলকে বাইরে রেখেই ‘বিশেষ কমিটি’র মাধ্যমে এই সংশোধন প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করতে চাইছে সরকারি দল. অবশ্য সংবিধান সংশোধনসম্পর্কিত বিশেষ কমিটিতে যোগ দেওয়ার আনুষ্ঠানিক আহ্বান জানানো হলেও ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠিত না হওয়ায় তা প্রত্যাখ্যান করেছে বিরোধী দল. সংস্কার পরিষদকে পাশ কাটিয়ে সংবিধান সংশোধনের কোনো উদ্যোগে তারা অংশ নেবে না বলেও সাফ জানিয়ে দিয়েছে.


স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে ১৭ সদস্যবিশিষ্ট সংসদীয় বিশেষ কমিটিতে বিরোধী দলের জন্য পাঁচটি পদ ফাঁকা রেখে ১২ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়. বিরোধী দলকে কমিটিতে অন্তর্ভুক্তির জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করলেও শেষ পর্যন্ত তাদের সাড়া পাওয়া যায়নি. এদিকে বিরোধী দল বাইরে থাকলেও সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়াকে গ্রহণযোগ্য করতে বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে মতবিনিময়ের উদ্যোগ নিয়েছে বিশেষ কমিটি.


অন্যদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সংসদের বিরোধী দলসহ বৃহৎ রাজনৈতিক গোষ্ঠীকে অসন্তোষের মধ্যে রেখে সংবিধান সংশোধনের পথে এগোলে তা আইনগতভাবে কার্যকর হলেও রাজনৈতিকভাবে প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে. জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকেও স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, সংস্কার ছাড়া কোনো সংশোধন মানা হবে না এবং তাদের বর্জন অব্যাহত থাকবে. তবে সরকারি দলের প্রত্যাশা, চূড়ান্ত প্রক্রিয়ায় বিরোধী দল শেষ পর্যন্ত যুক্ত হবে এবং বিতর্কের মধ্য দিয়ে সংসদে সমঝোতা অর্জিত হবে.