ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)-এর সংগ্রহশালায় ছাত্রনেতা আব্দুল মালেকের ছবি স্থান পাওয়ার পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে নতুন করে ঐতিহাসিক পর্যালোচনা শুরু হয়েছে। তৎকালীন সময়ের বিভিন্ন দলিল, সংবাদপত্রের প্রতিবেদন এবং গবেষকদের লেখা থেকে জানা যায়, ষাটের দশকের উত্তাল রাজনৈতিক ও শিক্ষাঙ্গনের বাস্তবতায় আব্দুল মালেকের জীবনাবসান ঘটেছিল।
কে ছিলেন আব্দুল মালেক? ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, আব্দুল মালেকের বাড়ি ছিল বগুড়ায়। শিক্ষাজীবনে অত্যন্ত মেধাবী হিসেবে পরিচিত মালেক ১৯৬৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন (বায়োকেমিস্ট্রি) বিভাগে ভর্তি হন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পা রাখার পরপরই তিনি তৎকালীন রাজনীতি ও ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হন এবং ফজলুল হক মুসলিম হলে বসবাস করতেন।
১৯৬৯ সালের ১২ আগস্টের সেই ঘটনা: ইতিহাসবিদ ড. মোহাম্মদ হাননানের লেখা ‘বাংলাদেশের ছাত্র আন্দোলনের ইতিহাস (১৮৩০-১৯৭১)’ বইসহ বিভিন্ন সূত্রে ১৯৬৯ সালের ১২ আগস্টের ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ পাওয়া যায়। ওইদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে (টিএসসি) ডাকসুর উদ্যোগে একটি মুক্ত আলোচনার আয়োজন করা হয়। সেসময়ের ডাকসুর সহসভাপতি (ভিপি) তোফায়েল আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সভায় শিক্ষার বিভিন্ন দিক ও রূপরেখা নিয়ে আলোচনা চলছিল।
আলোচনার একপর্যায়ে ছাত্র ইউনিয়নের তৎকালীন নেতাদের বক্তব্যের বিরোধিতা করে ইসলামী ছাত্রসংঘের কর্মীরা সভাকক্ষে প্রবেশ করেন এবং শ্লোগান দিতে শুরু করেন। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং দুই পক্ষের মধ্যে চেয়ার ছোটাছুটি ও হাতাহাতি শুরু হয়। ডাকসু নেতৃত্ব বারবার মাইকে পরিস্থিতি শান্ত করার আহ্বান জানালেও তা কাজে আসেনি। একপর্যায়ে সংঘর্ষটি টিএসসি ভবন ছাড়িয়ে বাইরে রেসকোর্স ময়দান পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে সংঘর্ষের জেরে আব্দুল মালেক মারাত্মকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হন এবং পরবর্তীতে তাঁর মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটে।
পরবর্তী প্রতিক্রিয়া: সেসময় আব্দুল মালেকের অনভিপ্রেত মৃত্যুর ঘটনায় তৎকালীন বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের শীর্ষ নেতারা এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা গভীর শোক প্রকাশ করেছিলেন। বিভিন্ন বিবৃতে সেসময়কার ছাত্রনেতারা শিক্ষাঙ্গনে যেকোনো ধরনের সহিংসতা পরিহার করে গণতান্ত্রিক সহাবস্থান বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছিলেন। বর্তমান সময়ে ডাকসুর সংগ্রহশালায় সেই ঐতিহাসিক অধ্যায়ের নানা স্মারক ও ছবি যুক্ত হওয়ার পর ইতিহাসের এই বেদনাদায়ক পাতাটি আবারও নতুন প্রজন্মের সামনে আলোচনায় এসেছে।