সম্প্রতি কুমিল্লা মহানগর জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয়ে সংঘটিত অপ্রীতিকর ঘটনা এবং গাড়ি ভাঙচুরের জেরে কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর মগবাজারে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জামায়াতের আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জরুরি বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠক শেষে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে কমিটি বিলুপ্তির বিষয়টি জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দলের গঠনতন্ত্রের ১৬ নম্বর ধারার ৩ নম্বর উপধারার ‘চ’ অনুচ্ছেদ অনুসরণ করে ৬৩ নম্বর ধারার ক্ষমতাবলে কুমিল্লা মহানগরী জামায়াতের বর্তমান সংগঠন ও ইমারাত ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এখন থেকে কেন্দ্র সরাসরি এই মহানগর সংগঠন পরিচালনা ও তত্ত্বাবধান করবে। কেন্দ্রীয় পক্ষ থেকে এই তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব পালন করবেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম।
এছাড়া গত ১৪ অক্টোবরের ঘটনার নেপথ্য কারণ উদঘাটন ও প্রকৃত সত্য জানতে দুই সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। দলের নায়েবে আমির ও এমপি এ টি এম আজহারুল ইসলাম এবং সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা মুহাম্মদ শাহজাহানকে এই কমিটির সদস্য করা হয়েছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এই কমিটি জামায়াত আমিরের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবে এবং প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
এর আগে গত বুধবার রাতে কুমিল্লা মহানগর কার্যালয়ের সামনে গাড়ি ভাঙচুরের ওই ঘটনার পর দেশজুড়ে এবং স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। ওই ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে ইতোমধ্যে আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) কুমিল্লা মহানগর আহ্বায়ক গোলাম মোহাম্মদ সামদানীকে দলীয় পদ থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে এবং কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। জামায়াতের পক্ষ থেকে দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষায় যেকোনো ধরনের অনৈতিক ও বিশৃঙ্খল কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণের কথা স্পষ্ট করা হয়েছে।