কুমিল্লা মহানগর জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয়ে গত ১৪ অক্টোবর উদ্ভূত অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এবং সহিংসতার ঘটনায় দলটির শীর্ষ দুই নেতার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সাবেক মহানগর আমির কাজী দ্বীন মোহাম্মদ এবং সাবেক নায়েবে আমির একেএম এমদাদুল হক মামুনের প্রাথমিক সদস্যপদ বা রোকন পদ বাতিল করা হয়েছে। রোববার (১ নভেম্বর) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কুমিল্লা মহানগরীর তত্ত্বাবধায়ক মাওলানা আবদুল হালিম।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ অক্টোবর সন্ধ্যায় কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের নতুন কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে কার্যালয়ের ভেতরে ও বাইরে তীব্র উত্তেজনা, সংঘর্ষ, ককটেল বিস্ফোরণ এবং মহানগর সেক্রেটারির ব্যক্তিগত গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় পক্ষ থেকে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়। গত ২৬ অক্টোবর জামায়াতের আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পর্যালোচনা করা হয়।
এর আগে ওই ঘটনার সত্যতা উদঘাটনে দলের নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম এবং সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা মুহাম্মদ শাহজাহানকে নিয়ে দুই সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। কমিটির সুপারিশের আলোকেই কাজী দ্বীন মোহাম্মদ ও একেএম এমদাদুল হক মামুনের রোকন পদ বাতিলের এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। উল্লেখ্য, ওই ঘটনার জেরে এর আগেই ১৬ অক্টোবর কুমিল্লা মহানগর জামায়াত কমিটি ভেঙে দিয়ে কেন্দ্র থেকে সরাসরি তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব দেওয়া হয় মাওলানা আবদুল হালিমকে। পাশাপাশি এই বিশৃঙ্খলায় সম্পৃক্ততার অভিযোগে এবি পার্টির কুমিল্লা মহানগর আহ্বায়ক গোলাম মোহাম্মদ সামদানীকেও সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল।