ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্থায়ী কমিটিগুলোর সভাপতি নির্বাচন নিয়ে বিরোধী দলের প্রত্যাশা ও বাস্তবতার মধ্যে বড় ধরনের পার্থক্য দেখা গেছে। সংসদে সরকারের কাজের ওপর নজরদারি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম এসব স্থায়ী কমিটি হলেও অধিকাংশ কমিটির নেতৃত্বই পেয়েছেন সরকারি দলের সদস্যরা।

জুলাই জাতীয় সনদের প্রস্তাবের আলোকে বিরোধী দল ৫০টি স্থায়ী কমিটির মধ্যে ১৪টির সভাপতির পদ চেয়েছিল। তবে কমিটি গঠনের পর দেখা গেছে, বিরোধী দলের জন্য রাখা হয়েছে মাত্র একটি সভাপতি পদ। সরকারি হিসাব-সংক্রান্ত কমিটির সভাপতি হয়েছেন সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের।

সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি পদ বণ্টনের ক্ষেত্রে কোন দলের কতজন সভাপতি হবেন—এ বিষয়ে সংবিধান বা সংসদের কার্যপ্রণালি বিধিতে নির্দিষ্ট কোনো বাধ্যতামূলক অনুপাত নেই। ফলে কমিটির নেতৃত্ব বণ্টনে সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের সিদ্ধান্তই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

এর আগে বিভিন্ন সংসদেও বিরোধী দল থেকে স্থায়ী কমিটির সভাপতি করার নজির রয়েছে। তবে কোন সংসদে কতটি কমিটির নেতৃত্ব বিরোধী দল পেয়েছে, তা একেক সময়ে একেক রকম ছিল। ফলে বিরোধী দলকে আনুপাতিক হারে কমিটির সভাপতি করার বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক নতুন নয়।

সংসদীয় ব্যবস্থা বিশেষজ্ঞদের মতে, স্থায়ী কমিটিতে বিরোধী দলের কার্যকর নেতৃত্ব থাকলে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কর্মকাণ্ডের ওপর নজরদারি আরও শক্তিশালী হতে পারে। এতে সংসদে জবাবদিহি বাড়ার পাশাপাশি গণতান্ত্রিক ভারসাম্যও প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সুযোগ থাকে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে, সংসদীয় কমিটিতে বিরোধী দলের অংশগ্রহণ শুধু সংখ্যার প্রশ্ন নয়; এর সঙ্গে সংসদে কার্যকর বিরোধী ভূমিকা এবং সরকারের জবাবদিহির বিষয়টিও সরাসরি যুক্ত। তাই ভবিষ্যতে কমিটির নেতৃত্ব বণ্টনে বিরোধী দলের প্রতিনিধিত্ব কীভাবে নিশ্চিত করা হবে, সেটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক আলোচনার বিষয় হয়ে উঠতে পারে।