পবিত্র মক্কা নগরী আল্লাহ তা'য়ালার ঘর কা‘বার কারণে পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ ও পবিত্রতম স্থান। এই পবিত্র নগরীতে যেকোনো প্রকার হামলা বা আগ্রাসন চালানো হলে তার বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া এবং নিন্দা জানানোকে নৈতিক ও ঈমানি দায়িত্ব হিসেবে দেখা হয়। সম্প্রতি মক্কা নগরীর নিরাপত্তাকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

সৌদি আরব জানিয়েছে, দেশটির বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী মক্কা নগরীর দক্ষিণ দিকে প্রবেশ করার আগেই একটি শত্রুভাবাপন্ন ড্রোন সফলভাবে প্রতিহত ও ধ্বংস করেছে। এই ঘটনার পর মক্কা, জেদ্দা এবং তায়েফ অঞ্চলে স্বল্প সময়ের জন্য নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয়। সৌদি জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি এই ঘটনাকে পবিত্র স্থানের অবমাননা এবং ইবাদতকারীদের ভয় দেখানোর একটি উসকানিমূলক প্রচেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করে জানিয়েছেন, মক্কার নিরাপত্তা কোনোভাবেই লঙ্ঘন করা যাবে না এবং এটি একটি ‘রেড লাইন’।

এই ঘটনার পর ৫৭টি মুসলিম দেশের সংস্থা ‘অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কোঅপারেশন’ (ওআইসি) মক্কা ও মদিনা অঞ্চলে হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং একে আন্তর্জাতিক আইন ও ইসলামিক মূল্যবোধের পরিপন্থী বলে আখ্যায়িত করেছে।

অপরদিকে, মক্কা লক্ষ্য করে ড্রোন হামলার অভিযোগ দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহী গোষ্ঠী। হুতি রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য হাজিম আল-আসাদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বিবৃতিতে জানান, মক্কা লক্ষ্য করে হামলার দাবিটি সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং বানোয়াট, যা এর আগেও বিভিন্ন সময়ে ব্যবহার করা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, চলমান আঞ্চলিক সংঘাতের মধ্যে পবিত্র নগরীকে ঘিরে এ ধরনের অভিযোগ ও পাল্টাপাল্টি অস্বীকৃতির ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।