জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে বাংলাদেশের অবস্থান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিশ্বমঞ্চে দেওয়া এই ভাষণে তিনি বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠা এবং সমঝোতামূলক বিশ্ব গড়ার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

ভাষণে প্রধানমন্ত্রী দেশের দীর্ঘ দেড় দশকের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও গণতান্ত্রিক যাত্রার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ২০২৪ সালে ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটিয়ে বাংলাদেশ পুনরায় গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করেছে। এছাড়া সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি ও সুফল পৌঁছে দিতে সরকার ফ্যামিলি কার্ড, ফার্মার্স কার্ড, স্পোর্টস কার্ড ও ই-হেলথ কার্ডের মতো বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা ও অর্থনৈতিক গণতন্ত্রায়নের কর্মসূচি হাতে নিয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ ৯ বছরেরও বেশি সময় ধরে ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ পরিবেশ, নিরাপত্তা ও অর্থনীতির দিক থেকে বড় ধরনের চাপের মুখে রয়েছে। এই সংকটের স্থায়ী সমাধান মিয়ানমারেই নিহিত উল্লেখ করে তিনি রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর ভূমিকা ও জীবন রক্ষাকারী সহায়তা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, কার্বণ নিঃসরণে ন্যূনতম ভূমিকা থাকলেও বাংলাদেশ এর বিরূপ প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর অন্যতম। পরিবেশ সুরক্ষায় দেশের অভ্যন্তরে আগামী ৫ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর উদ্যোগ, ২০ হাজার কিলোমিটার খাল পুনঃখনন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা এবং পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প বাস্তবায়নের কথা তুলে ধরেন তিনি। পাশাপাশি জলবায়ু তহবিল ও অভিযোজন সহায়তায় ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করার জোরালো দাবি জানান প্রধানমন্ত্রী।