নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা-২০০৮ সংশোধন করে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রজ্ঞাপন জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বুধবার নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে এই প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

রিপ্রেজেন্টেশন অব দ্য পিপল অর্ডার, ১৯৭২-এর আর্টিকেল ৯৪-এর ক্ষমতাবলে নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা সংশোধন করা হয়েছে। সংশোধিত বিধিমালা অনুযায়ী, কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে স্থগিতকৃত প্রতীক (নৌকা) ব্যতীত নির্ধারিত প্রতীকগুলো থেকে প্রাপ্যতা সাপেক্ষে যেকোনো একটি প্রতীক বরাদ্দ করা যাবে। প্রকাশিত ১২০টি সংরক্ষিত প্রতীকের মধ্যে ‘না’ প্রতীকও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে এবং একক প্রার্থীর ক্ষেত্রে এই ‘না’ ভোট বা প্রতীক কার্যকর থাকবে।

প্রজ্ঞাপনে প্রতীকের তালিকার পাশাপাশি মনোনয়ন ফরম ও হলফনামার নিয়মেও বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। তফসিল-১ এর ফরম-১ এর তৃতীয় অংশের মনোনীত প্রার্থীর ঘোষণায় নির্বাচনি ব্যয়ের জন্য ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বরের পাশাপাশি প্রার্থী বা প্রার্থীর নিয়োজিত নির্বাচনি এজেন্টের অ্যাকাউন্ট নম্বরও যুক্ত করতে হবে।

এছাড়া প্রার্থী কর্তৃক প্রদত্ত হলফনামার সংযুক্তি-১ এর কয়েকটি ক্ষেত্রে শিথিলতা আনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে:

ক্রমিক নম্বর ৩(খ)-এর বিশেষ দ্রষ্টব্যে ‘সংযুক্ত করিতে হইবে’ শব্দের পরিবর্তে ‘দাখিল ঐচ্ছিক মর্মে বিবেচিত হইবে’ প্রতিস্থাপিত হয়েছে।

ক্রমিক নম্বর ৩(গ)-এ নতুন বিশেষ দ্রষ্টব্য যোগ করে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, ‘অভিযুক্ত বলিতে ওই আসামিকে বুঝাইবে যাহার বিরুদ্ধে আদালত কর্তৃক অভিযোগ (চার্জ) গঠিত হয়।’

ক্রমিক নম্বর ১০-এর বিশেষ দ্রষ্টব্য অনুযায়ী, স্বামী/স্ত্রী, সন্তান ও নির্ভরশীলদের আয়কর সংক্রান্ত তথ্য প্রদান এখন থেকে ঐচ্ছিক বলে বিবেচিত হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্বাচন কমিশনের এই বিধিমালা সংশোধন নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনয়ন এবং মনোনয়ন প্রক্রিয়াকে আরও বাস্তবসম্মত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।