পশ্চিমবঙ্গে আবারও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক ও সাম্প্রদায়িক চাপের অভিযোগ উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইসলামিক পরিভাষা তথা ‘ইনশাআল্লাহ’ এবং ‘জাযাকাল্লাহ’ শব্দ ব্যবহার করার অপরাধে হিন্দুত্ববাদী কয়েকটি উগ্র সংগঠনের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন তরুণ আইপিএস কর্মকর্তা বুশারা বানু। এই বিতর্কের জেরে তাঁকে শেষ পর্যন্ত বর্তমান দায়িত্ব থেকে বদলি করা হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত ঘটে যখন আইপিএস অফিসার বুশারা বানু তাঁর ব্যক্তিগত বা দাপ্তরিক কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট কোনো বিষয়ে এই শব্দগুলো ব্যবহার করেন। এরপরই রাজ্যের বেশ কিছু হিন্দুত্ববাদী সংগঠন ও কট্টরপন্থী গোষ্ঠী সোচ্চার হয়ে ওঠে। তাদের দাবি, একজন পুলিশ কর্মকর্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ ও নিরপেক্ষ সাংবিধানিক পদে থেকে এ ধরনের ধর্মীয় শব্দ ব্যবহার করা ধর্মনিরপেক্ষতার নীতি ও প্রশাসনিক নিরপেক্ষতার পরিপন্থী। বিষয়টি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি করা হয় এবং ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
সংগঠনগুলোর লাগাতার চাপ, হুমকি এবং ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক উত্তেজনার মুখে পরিস্থিতি সামাল দিতে নড়েচড়ে বসে রাজ্য প্রশাসন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও প্রশাসনিক স্বস্তি বজায় রাখতে তড়িঘড়ি করে আইপিএস কর্মকর্তা বুশারা বানুকে তাঁর বর্তমান পোস্টিং থেকে সরিয়ে অন্য দপ্তरे বদলি করা হয়। প্রশাসনের এই পদক্ষেপে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বুদ্ধিজীবী ও নাগরিক সমাজের একটি বড় অংশ।
বিশ্লেষকদের মতে, একজন মুসলিম কর্মকর্তা নিজের বিশ্বাসের বা সংস্কৃতির ছোটখাটো শব্দ ব্যবহার করার কারণে যদি এই ধরনের হেনস্তা ও বদলির শিকার হন, তবে তা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং ব্যক্তিগত বিশ্বাসের অধিকারের ওপর সরাসরি আঘাত। বিশেষ করে একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রে পুলিশ প্রশাসনের মতো জায়গায় এভাবে সাম্প্রদায়িক সংগঠনের চাপে সিদ্ধান্ত নেওয়া ভবিষ্যতের জন্য বিপজ্জনক বার্তা বহন করে।
এ বিষয়ে রাজ্য সরকারের তরফ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বড় প্রতিক্রিয়া না পাওয়া গেলেও, প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে যে অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক এড়াতেই এই বদলির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা এবং সংখ্যালঘুদের অধিকার সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

