সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থাকে আরও জনমুখী ও আকর্ষণীয় করতে নতুন কিছু উদ্যোগ হাতে নিয়েছে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ। দেশের চার শ্রেণির প্রায় ১০ কোটি মানুষের কথা বিবেচনা করে ২০২৩ সালের ১৭ আগস্ট চালু হওয়া এই ব্যবস্থাকে আরও গতিশীল করতে আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের চতুর্থ পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে ১১টি নতুন প্রস্তাব উত্থাপন করা হচ্ছে। অর্থমন্ত্রী ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে এই পর্ষদ বৈঠকে যেসব প্রস্তাব অনুমোদিত হবে, তা পরবর্তীতে বাস্তবায়নের দিকে যাবে।
জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, চালুর তিন বছর পার হলেও ৪টি স্কিমে (প্রগতি, সুরক্ষা, সমতা ও প্রবাস) এ পর্যন্ত ৩ লাখ ৭৯ হাজার ৯২০ জন গ্রাহক নিবন্ধিত হয়েছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সাড়া পড়েছে সমতা কর্মসূচিতে। তবে ব্যাংকের আমানতের তুলনায় রিটার্ন কম হওয়া এবং পেনশনের আগে তাৎক্ষণিক সুবিধা সীমিত থাকায় মানুষের আগ্রহ বাড়াতে নানা নতুন সুবিধা যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
যেসব গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের প্রস্তাব রয়েছে:
১. ৫ বছর পর টাকা তোলার সুযোগ: বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী একবার স্কিমে প্রবেশ করলে তা থেকে মাঝপথে বের হওয়ার কোনো সুযোগ ছিল না। নতুন প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ৫ বছর নিয়মিত অর্থ জমা দেওয়ার পর শারীরিক বা আর্থিক কারণে কেউ অক্ষম হয়ে পড়লে বিশেষ বিবেচনায় জমা হওয়া অর্থ উত্তোলনের সুযোগ দেওয়া হবে।
২. ৫৫ বছর বয়স থেকেই পেনশন: বর্তমান নিয়মে ৬০ বছর বয়স পূর্ণ হলে পেনশন সুবিধা পাওয়া যায়। নতুন প্রস্তাবে তা কমিয়ে ৫৫ বছর বয়স থেকেই পেনশন ব্যবস্থা চালুর সুপারিশ করা হয়েছে। এর আগে গত বছর ৩০ শতাংশ টাকা এককালীন তোলার সুযোগ রাখা হয়েছিল।
৩. নমিনির জন্য আজীবন পেনশন: বর্তমানে চাঁদাদাতা মারা গেলে তাঁর পরিবার বা নমিনি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত পেনশন পান। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, কোনো পেনশনভোগী মারা গেলে তাঁর মনোনীত স্বামী বা স্ত্রী আজীবন পেনশন সুবিধা ভোগ করবেন।
৪. ইসলামিক পেনশন ব্যবস্থা ও স্বাস্থ্য বিমা: সুদভিত্তিক ব্যবস্থার বাইরে গিয়ে সাধারণ মানুষের একটি অংশের চাহিদা মেটাতে সর্বজনীন পেনশন স্কিমে ‘ইসলামিক ভার্সন’ চালুর বিষয়ে আলোচনা রয়েছে। পাশাপাশি গ্রাহকদের জন্য ১০ থেকে ২০ টাকার মাসিক প্রিমিয়ামে স্বাস্থ্য বিমা চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।
৫. আর্থিক সেবাদাতাদের কমিশন বৃদ্ধি: ব্যাংক, ডাক বিভাগ ও এমএফএস (মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস) প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে গ্রাহক নিবন্ধন বাড়াতে সংশ্লিষ্ট সেবাদাতাদের কমিশন ১৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
৬. মূল্যস্ফীতি মোকাবিলা তহবিল: দীর্ঘমেয়াদী মূল্যস্ফীতি ও মুনাফার হার পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় একটি রিজার্ভ বা কনটিনজেন্সি তহবিল গঠনের প্রস্তাবও রাখা হয়েছে আলোচ্যসূচিতে।
কর্তৃপক্ষ আশা করছে, পর্ষদ সভায় এসব প্রস্তাব অনুমোদিত হলে সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থার সংকট কাটবে এবং নিবন্ধনকারীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে।


