রাষ্ট্র কাঠামোর সংস্কারসহ বিভিন্ন দাবিতে আবারও রাজপথে আন্দোলনে নামার কথা জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা ও সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বগুড়া শহরের মাটিডালী মোড়ে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা–রংপুর লংমার্চ উপলক্ষে আয়োজিত পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন বগুড়া জেলা ও মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমির অধ্যক্ষ আবিদুর রহমান সোহেল।
হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, তাঁদের আন্দোলনের লক্ষ্য শুধু সরকার পরিবর্তন নয়; রাষ্ট্রের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থায় কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনা। তাঁর দাবি, সরকার পরিবর্তনের পরও জনগণের প্রত্যাশিত পরিবর্তন আসেনি। এ কারণে রাষ্ট্র সংস্কারের দাবি বাস্তবায়নে আবারও রাজপথে আন্দোলন প্রয়োজন।
বিএনপি সরকারের সমালোচনা করে তিনি অভিযোগ করেন, বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের পরিবর্তে বিভিন্ন খাত ও স্থানে চাঁদাবাজির সুযোগ তৈরি হয়েছে। তাঁর বক্তব্যে সিএনজি স্টেশন, বাসস্ট্যান্ড ও হাট-বাজারের মতো জায়গায় চাঁদাবাজির অভিযোগের কথা উঠে আসে।
নির্বাচনের পর বিভিন্ন গোষ্ঠীর মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অনিয়ম ও লুটপাটের অভিযোগও করেন হাসনাত আব্দুল্লাহ। একই সঙ্গে মেগা প্রকল্পের ব্যয়, বগুড়া–সিরাজগঞ্জ রেলপথ নির্মাণ এবং নতুন শিল্পকারখানা স্থাপনের অগ্রগতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
বক্তব্যে প্রশাসনিক অনিয়মের বিভিন্ন অভিযোগের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তিনি। পুলিশের ওসি পদায়নে ঘুষ লেনদেনের কথিত একটি অডিও এবং সরকারের বিভিন্ন ব্যক্তিকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার অভিযোগের সমালোচনা করেন হাসনাত। এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
এ ছাড়া রাজনৈতিক মতবিরোধকে কেন্দ্র করে হামলা-মামলা, শিক্ষার্থী হত্যাকাণ্ড এবং কারাগারে নির্যাতনের অভিযোগ নিয়েও বক্তব্য দেন তিনি।
লংমার্চের দাবিগুলো
১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা–রংপুর লংমার্চ শনিবার সকালে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে শুরু হয়। গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ-তেল-গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ, দুর্নীতি-চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন দাবি সামনে রেখে কর্মসূচিটি আয়োজন করা হয়েছে।
ঢাকা থেকে রংপুরের পথে গাজীপুর, টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া ও গাইবান্ধায় পথসভা এবং রংপুরে সমাপনী সমাবেশের কর্মসূচি রয়েছে।


